1. admin@dainikaloronbangla.com : admin :
  2. log.in.ramisa@gmail.com : News Operator :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

জুমার খুতবার সময় চুপ থাকা কেন জরুরি? ইসলামের নির্দেশনা কী বলে

  • শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ১০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনটি ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের কাছে সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে পরিচিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহর কাছে জুমার দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের মতোই শ্রেষ্ঠ।

এ দিনটি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-১০৮৪)

জুমার নামাজের একটি অপরিহার্য অংশ হলো খুতবা, যা মুসল্লিদের জন্য ইমাম কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্য। এটি হেদায়েত, শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। খুতবা চলাকালীন মুসল্লিদের অন্য কাউকে ইশারা করা কিংবা মনোযোগ বিচ্যুত হওয়া সম্পর্কে ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

দেখা যায়, খুতবা চলাকালে অনেকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, অন্যের সঙ্গে কথা বলেন কিংবা অন্যকে চুপ করাতে গিয়ে নিজেরাই কথা বলে ফেলেন। এসব আচরণ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমার দিন ইমাম খুতবা দানকালে আপনি যদি পাশের কাউকে বলেন, “চুপ থাকুন”, তাহলে আপনি জুমার সওয়াব নষ্ট করে ফেললেন।’ [সহিহ বুখারি : ৮৯২; সহিহ মুসলিম : ৮৫১]

এই নিষেধাজ্ঞা শরিয়ত অনুমোদিত প্রশ্নের উত্তর প্রদানকেও অন্তর্ভুক্ত করে; দুনিয়াবি বিষয়গুলো তো অবশ্যই এর অন্তর্ভুক্ত।

আবুদ দারদা (রাঃ) বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে বসে জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি একটি আয়াত তিলাওয়াত করলে আমি পাশে থাকা উবাই ইবনে কাব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, আয়াতটি কখন নাজিল হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দেননি। খুতবা শেষে উবাই (রাঃ) বলেন, খুতবার সময় কথা বলার কারণে তুমি জুমার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়েছ।

বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘উবাই ঠিক বলেছে। ইমাম খুতবা দেওয়া শুরু করলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকবে।’ [মুসনাদে আহমাদ : ২০৭৮০; সুনানে ইবনে মাজাহ : ১১১১]

আল-বুসিরি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। এ হাদিস প্রমাণ করে যে, জুমার দিন ইমামের খুতবাকালে নীরবতা পালন করা ফরজ এবং কথা বলা হারাম।

আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ওই সময় একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় একজন বেদুইন দাঁড়িয়ে বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার-পরিজন ক্ষুধায় কাতর। আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।’ তখন তিনি দুই হাত তুললেন।

তার দোয়ার ফলে সেদিন বৃষ্টি নামল। এরপর পরবর্তী কয়েক দিন এবং পরবর্তী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকল। সেই জুমায় একই বেদুইন অথবা অন্য একজন দাঁড়িয়ে বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, সম্পদ ডুবে যাচ্ছে। আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।’ তখন তিনি আবার দুই হাত তুললেন। [সহিহ বুখারি : ৮৯১; সহিহ মুসলিম : ৮৯৭]

এ ছাড়া, জুমার খুতবা চলাকালে সালাম দেওয়া হারাম। অতএব, ইমামের খুতবা চলাকালে যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করবে, তার জন্য সালাম দেওয়া জায়েজ নয় এবং অন্যদের জন্যও সেই সালামের উত্তর দেওয়া জায়েজ নয়। [বিন উসাইমীনের ফতোয়াসমগ্র, ১৬/১০০]

জুমায় উপস্থিত মুসল্লিদের ওপর চুপ থেকে ইমামের খুতবা শোনা ফরজ। ইমাম খুতবা প্রদানকালে কথা বলা নাজায়েজ। তবে দলিলের ভিত্তিতে কয়েকটি বিষয় এ বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে না; যেমন—খতিবের সঙ্গে কথা বলা, খতিবের কথার জবাব দেওয়া কিংবা কোনো অন্ধ ব্যক্তিকে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করার মতো জরুরি কোন ঘটনা ঘটলে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved 2026 dainikaloronbangla
Theme Customized By BreakingNews