স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপে আবারও প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখল আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারাল মেসিরা। ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল উত্তেজনা, লড়াই আর ফাউলে ভরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে ম্যাচ। আর তাতেই ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা। থ্রি লায়ন্সদের কাঁদিয়ে শেষ পর্যন্ত আটলান্টায় উৎসব করল আলবিসেলেস্তারা। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকে ফুটবলের চেয়ে যেন শারীরিক শক্তির প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। দ্বিতীয় মিনিটে শুরুটা করেছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস, কাঁধে ধাক্কা দিয়েছিলেন জুড বেলিংহামকে। এ সময় এনজো ফার্নান্দেস ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির জেরে মাঝমাঠে প্রথমে উত্তেজনা ছড়ায়। এই উত্তেজনা ছিল প্রথমার্ধজুড়েই। এরপর থেকে দুই দলই শারীরিক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
গোল আদায়ে প্রথমার্ধে বলার মতো তেমন কোনো আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। বিরতির পর ৪৭ মিনিটে প্রথম সুযোগটি তৈরি করে আর্জেন্টিনা। যদিও সেই আক্রমণ থেকে গোল আসেনি। হুলিয়ান আলভারেজের শট ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে দারুণ এক গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। ডান প্রান্তে মরগান রজার্সের ক্রসে দারুণ এক গোলে ইংলিশদের এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন।
পিছিয়ে পড়ার পর যেন জ্বলে ওঠেন মেসি ও তাঁর সতীর্থরা। সমতা ফেরাতে একের পর এক আক্রমণের ঝড় তোলেন তারা। ৬৯ মিনিটে নিকো গঞ্জালেসের হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন পিকফোর্ড। ৭৬ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে গোল করে এনজো ফার্নান্দেজ দলকে সমতায় ফেরান। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেডে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দেন লাওতারো মার্তিনেজ।
সেমিফাইনালেই শেষ হয় ইংল্যান্ডের সোনালি প্রজন্মের পথচলা। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে আর্জেন্টিনা।
Leave a Reply