1. admin@dainikaloronbangla.com : admin :
  2. log.in.ramisa@gmail.com : News Operator :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও বন্যায় ৬ দিনে মৃত্যু ১৯: রেকর্ড বৃষ্টিপাত

  • বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১১৬

কক্সবাজার সংবাদদাতা

কক্সবাজারে গত চার দিনে সাম্প্রতিক সময়ের রেকর্ড ৭৪৯ মিলিমিটার অতিভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ৬ দিনে জেলাজুড়ে পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে শিশু ও শিক্ষার্থীসহ মোট ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ১৬ জন পাহাড়ধসে এবং ৩ জন পানিতে ভেসে বা ডুবে মারা গেছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় পাহাড়ধসে ৫ জন নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১৩ জন শিশুর মধ্যে এই পাঁচজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। নিহতরা হলো—রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২), উমাইসা বিবি (১৩) এবং শাহেদা (১২)। গত তিন দিনে ক্যাম্পগুলোতে ১৬০টি ছোট-বড় দুর্যোগজনিত ঘটনায় ১৫ হাজার ৮১৩ জন রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১০টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সাগরের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন এবং কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে করে সেন্টমার্টিন দ্বীপে খাদ্য ও জরুরি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে বর্তমানে ১ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৩ জন, কক্সবাজার সদরে ২ জন, পেকুয়ায় ১ শিশু এবং উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে [৪]। এছাড়া মহেশখালীতে গর্তে পড়ে ১ শিশু এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানিতে ভেসে আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়। রামুতে ঢলের পানিতে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে সাজেদ (১২) নামে এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে এবং সেন্টমার্টিনে এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে এবং ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানিয়েছেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে এবং উদ্ধারকাজের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম (০১৮৭২-৬১৫১৩২) খোলা হয়েছে। উজান থেকে আসা পানি দ্রুত নামিয়ে দেওয়ার জন্য চকরিয়া ও মাতামুহুরীর উপকূলীয় স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved 2026 dainikaloronbangla
Theme Customized By BreakingNews